Friday, 19 June 2015

রমজানুল মুবারকের ৩০ শিক্ষা (১-৫)

১ম শিক্ষা:

১. তাকওয়া রমযানের মূল শিক্ষা:
ক. রোযা ফরয হওয়ার কারণ : আল্লাহভীতি অর্জন। (সূরা আল বাকারাহ-১৮৩) আল্লাহর ভয় থাকলে গোপনেও পাপ কাজ করা যায় না।

খ. তাকওয়ার দুনিয়াবী ফায়দা:
-সত্য-মিথ্যা চিনতে পারা
-আল্লাহর ভালবাসা লাভ
-আমল কবুল হওয়া ইত্যাদি।

গ. তাকওয়ার পরকালীন শিক্ষা: জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

২. অন্যান্য ধর্মে রোযা:
অন্যান্য ধর্মের রোযা মূলত উপবাস; যাকে বলা যেতেপারে না খাওয়া বা নিয়ন্ত্রিত খাওয়া। আত্মিক পরিশুদ্ধির বিষয়টি সেখানে কমপ্রাধান্য পায়। কিন্তু ইসলামে আত্মীক পরিশুদ্ধিই গুরুত্বপূর্ণ; নিছক খাওয়াবর্জন করা নয়।

২য় শিক্ষা:

ক) রমযানের বৈশিষ্ট্য:
১. এ মাসে বড় বড় শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়।
২. ক্ষুধা ও যন্ত্রণায় কাতরদের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি হয়।
৩. সবর ও ধৈর্যের ট্রেনিং পাওয়া যায়।
৪. রোযার কারণে দেহের ও সমাজের বিভিন্ন ব্যাধি হ্রাস পায়।
৫. ইফতার না করা পর্যন্ত ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকে।

খ) রোযার ফযীলত:
১. হক আদায় করে রোযা রাখলে গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
২. ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়।
৩. রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়।
৪. রমযান মাসে আমলের সওয়াব ১০-৭০০ গুণ। আর রোযার পুরস্কার আল্লাহ নিজে দেবেন।তাছাড়া রোযাদারের সম্মানে বেহেশতে ‘রাইয়ান’ নামক দরজা খোলা রাখা হয়।

গ) চিন্তার বিষয়: হাদীস থেকে জানা যায়,ফরয বাদ দিলে এবং হারাম কাজে জড়িত হলে রোযা রাখা শুধু ক্ষুধা,পিপাসা ও রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই নয়-অর্থাৎ তখন রোযার দ্বারা সওয়াব আশা করা যায় না।

৩য় শিক্ষা:

অন্তরের রোযা: রোযার জন্য মন-মানসিকতা, চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা ওপ্রবৃত্তিকে পবিত্র ও কলুষমুক্ত হতে হবে। সৎ নিয়ত, সৎ চিন্তা, পরিকল্পনা, একনিষ্ঠতা কিংবা আন্তরিকতা হচ্ছে অন্তরের মূলকথা।

৪র্থ শিক্ষা:

পেটের রোযা: নির্দিষ্ট কিছু সময়ে হালাল খাবারই যদি বর্জন করতে হয় তাহলে,হারাম খাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

হারাম খাবারের উদাহরণ:
ক. নিষিদ্ধ খাবার যেমন: শুকরের গোশত,বিভিন্ন হিংস্র প্রাণী ও পাখি, মদ ইত্যাদি অপবিত্র জিনিস।

খ) হারাম উপায়ে অর্জিত আয়। যেমন: ১. সুদ: সুদ নিষিদ্ধ। সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে মহাজনী সুদ ও ব্যাংকিং সুদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয়নি। উভয়ই হারাম। এ কারণে সুদী ব্যাংকে টাকারাখা বা চাকরী করাও বৈধ নয়।

২. ঘুষ: ঘুষ দেওয়া বা নেয়া উভয়ই অপরাধ। তবে যখন ন্যায়সঙ্গত ও বৈধ অধিকারটি ও ঘুষ ছাড়া আদায় হয় না তখন ঘুষ দেয়া যেতে পারে কিন্তু নেয়াটা সর্বাবস্থায়ই পরিত্যাজ্য-
এটাই চিন্তাবিদদের অভিমত।

৩. অন্যায় পথে উপার্জন: যেমন-অশ্লীলতা বৃদ্ধিকারী পণ্য বিক্রয়।

৪. জুলুম বা অত্যাচার: যেমন- চাঁদাবাজি, ছিনতাই ইত্যাদি। হারাম সম্পদ দিয়ে কেনা খাদ্যও হারাম। আর হারাম খাদ্য দিয়ে যে রক্তবিন্দু তৈরি হবে তার স্থান হচ্ছে জাহান্নাম।

৫ম শিক্ষা:

জিহ্বার রোযা: জিহ্বার ১৫টি দোষ বর্জন করতে হবে। যথা
১. মিথ্যা বলা
২. ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা
৩. অশ্লীল বা খারাপ কথা বলা
৪. গালি দেয়া
৫. নিন্দা করা
৬. অপবাদ দেয়া
৭. চোখলখুরী করা
৮. বিনা প্রয়োজনে গোপন কথা ফাঁস করা
৯. মুনাফিকীকরা বা দুই মুখে কথা বলা
১০. ঝগড়া-ঝাটি করা
১১. হিংসা করা
১২. বেহুদা ওঅতিরিক্ত কথা বলা
১৩. মন্দ জিনিস নিয়ে আলাপ করায় আনন্দ লাভ করা
১৪. অভিশাপ দেয়া
১৫. সামনা-সামনি প্রশংসা করা।
যে ব্যক্তি জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে পারবে কাল কিয়ামাতের দিন রাসূল (সাঃ) তার জান্নাতের জামিনদার হবেন।

No comments:

Post a Comment