Sunday, 1 March 2015

মুসলিম সমাজে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত(৬/৭)

১১ম পর্ব

নিজের ত্রুটিকে উপেক্ষা করে অন্যের ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোর মতো খারাপ কিছু আর নেই।একথা অনস্বীকার্য যে, মহাপুরুষ ছাড়া কোন মানুষই ভুল ত্রুটির উর্ধ্বে নয়। ফলে আরেক জনের ভুল-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানোটা আত্ম-প্রবঞ্চনার শামিল। বিশেষ করে এই প্রবণতাটি যদি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে দেখা দেয়, তাহলে পারিবারিক বিপর্যয় দেখা দেয়াটাই স্বাভাবিক। তাই পারস্পরিক ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি খুঁজে না বেড়িয়ে বরং ভালো গুণগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিন এবং সেগুলোর জন্যে প্রশংসা করুন। তবেই আপনার সংসার জীবন হয়ে উঠতে পারে সত্যিই এক সোনালী নীড়'।

মনে রাখবেন দোষ-ত্রুটি খুঁজতে গেলেই শয়তান প্ররোচিত করবে। আর শয়তানের প্ররোচনা মনের ভেতরে জাগাবে সর্বনাশী চিন্তা-ভাবনা। তাই শয়তানের কুমন্ত্রণায় না পড়ে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করুন এবং পরস্পরের মতামত ও ভালো লাগা-মন্দ লাগার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। এই আহ্বান জানিয়ে শুরু করছি সোনালী নীড়ের' এবারের পর্বে। ধরে নেয়া যাক, কোন কোন স্বামীর সত্যি-সত্যিই কিছু প্রাকৃতিক দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতাগুলোকে স্ত্রীদের কেউ কেউ অনেক সময় ত্রুটি হিসেবেই ধরে নেয়ার চেষ্টা করে থাকেন-এটা ঠিক নয়, বরং যেসব দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা বা সারিয়ে তোলা সম্ভব, সেগুলো থেকে মুক্তি লাভের জন্যে স্ত্রীদের উচিত স্বামীকে সহযোগিতা করা। নাক ডাকার জন্যে কিংবা নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধের জন্যে যদি সংসার ভাঙ্গতে হয়, তাহলে এরচে আর দুঃখজনক ঘটনা কী হতে পারে? অথচ এগুলো মানুষের চিকিৎসাযোগ্য সাধারণ সমস্যা। এই স্বাভাবিক ব্যাপারগুলোকে বহু গৃহিনী অন্যের সাথে তুলনা করে প্রকাশ্যেই বলে বেড়ান আমার যদি এখানে বিয়ে না হতো তাহলে আজ আমাকে এই কষ্ট ভোগ করতে হতো না। কিন্তু এই কথাটি তারা ভাবতে ভুলে যান যে, তাদের স্বামীর যে ত্রুটিটি নেই, সেই ত্রুটিটি অন্য পুরুষটির মধ্যে রয়েছে? ফলে ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো বা অন্যের স্বামীর সাথে তুলনা করে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগা খুবই দুঃখজনক।

এই ধরণের প্রবণতা থেকে স্ত্রীদের দৃষ্টি চলে যায় ঘরের বাইরে। আপন ঘরকে তখন মনে হয় নরক, আর স্বপ্নিল দৃষ্টিতে দেখেন স্বর্গীয় সুখ। অথচ নদীর ওপারে যে স্বর্গসুখ নেই বরং তা-ই যে জ্বলন্ত নরক, তা ভুক্তভূগীরাই জানেন। বিয়ের পরে স্বামীর ঘরই হলো স্ত্রীর জন্যে বেহেশত। এই বেহেশতে বসে অন্যদের নিয়ে ভাবলে কিংবা তাদের সাথে আপন স্বামীকে মেলানোর চেষ্টা করলে বহু অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যাবে। তখন যদি স্ত্রীরা এভাবে ভাবতে থাকে-আহা! আমার বিয়েটা যদি অমুকের সাথে হতো, তাহলে কতোই না ভালো হত! কিংবা কী চেয়েছিলাম, আর কী পেলাম! ইত্যাদি।

তাহলে আপনাদের মনে অজান্তেই দেখবেন স্বামীর সাথে একটা মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেছে। আর স্বামী যদি কোনভাবে ঐ দূরত্বের কারণ টের পান, তাহলে আপনাদের স্বামীরাও আপনাদের ওপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। এমনকী দ্বিতীয় বিয়ে করার কথাও ভাবতে পারেন। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই কর্মজীবনে বিচিত্র পেশায় নিয়োজিত। সব পেশাই কিন্তু সবার কাছে সমানভাবে পছন্দনীয় নয়। জীবিকার তাড়নায় তাই অপছন্দনীয় হলেও কোন না কোন পেশায় নিজেকে ব্যস্ত রাখতেই হয়। পেশা এমন কোন ব্যাপার নয় যে, হুট করেই গায়ের জামা-কাপড়ের মতো পরিবর্তন করে ফেলা যায়। বিশেষ করে উন্নয়নশীল বা দরিদ্র দেশগুলোতে তো পেশা বা চাকুরী প্রাপ্তি সোনার হরিণের মতো দুর্লভ। সেক্ষেত্রে তো পছন্দের প্রশ্নটিই অবান্তর। এ রকম ক্ষেত্রে কোন স্ত্রী যদি তার স্বামীর পেশাগত ব্যাপারে অপছন্দের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে, তখন স্বামী পুরুষটির কী অবস্থা দাঁড়ায় একবার ভাবুন তো! স্বামী যদি চাকুরী ছেড়ে দেয়, তাহলে সংসার অচল হয়ে যাবে। অন্যদিকে চাকুরীটি করলে স্ত্রীর বিষন্ন মুখ দেখতে হবে। তাহলে এর সমাধানটা কী হবে? হ্যাঁ এর একটাই সমাধান। তাহলো স্বামীর পেশার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়া।

তবে স্ত্রীর পছন্দের পেশায় যদি যোগ দেয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। এ ক্ষেত্রে স্বামী তার ব্যক্তিত্বের বিষয়টি বিবেচনা করে গ্রহণযোগ্য মনে করলে অবশ্যই স্ত্রীর পছন্দের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। কিন্তু স্ত্রীর পছন্দের পেশায় যদি যাবার সুযোগ না থাকে, তাহলে স্ত্রীদের উচিত সহনশীল হওয়া, ধৈর্যশীল হওয়া, বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করা। হুট করেই স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু করা কিংবা তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে চলা মোটেই উচিত নয়। মনে রাখতে হবে স্বামী যে পেশাতেই নিজের শ্রম দিচ্ছেন তা সংসারের জন্যেই। তো পেশা পরিবর্তন যেহেতু সম্ভব নয়, সেহেতু বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়াই যুক্তিযুক্ত। এতএব স্বামীকে ভর্ৎসনা না করে বরং তাঁর সাথে সহযোগিতা করুন। তাঁর পরিশ্রমকে আন্তরিকভাবে উপলদ্ধি করার চেষ্টা করুন। কাজ শেষে তিনি যখন বাসায় ফেরেন, তখন তাকে হাসিমুখে স্বাগত জানান। এ রকম আচরণের ফলে স্বামী, স্ত্রীর প্রতি অনেক বেশী অনুরক্ত হবেন। যার ফলে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষেই স্বামী, স্ত্রীর কাছে ছুটে আসতে চাইবেন। এরকম সম্পর্ক স্থাপিত হলে সংসার সত্যিকার অর্থেই সোনালী নীড়ে পরিণত হবে। আর বিপরীত আচরণের ফলে সংসারটি ভেঙ্গে যেতে পারে। কোন স্ত্রী নিশ্চয়ই তাঁর স্বপ্নের সংসারটিকে ভাঙ্গতে চান না।

যদি কেউ এর ব্যতিক্রম চিন্তা করে থাকেন, তাহলে তা-ও নিশ্চয়ই সুখের আশায়! আর হ্যাঁ, একথা সর্বজনবিদিত সত্য যে, সংসার ভেঙ্গে কখনোই সুখ পাওয়া যায় না, বরং সংসার গড়েই সুখের একটা পরিবেশ তৈরী করা যেতে পারে। তাই সংসারের স্বার্থে, সুখের স্বার্থে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মধুর সম্পর্ককে অটুট রাখতে বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবেন-এটাই আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।
                                      
১২ তম পর্ব

একটি সুশৃঙ্খল পরিবার গঠনে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক ঔদার্য, সহনশীলতা, ধৈর্য ও ছাড় দেয়ার প্রবণতা যে কতো গুরুত্বপূর্ণ তা নিশ্চয়ই আমাদের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে। পারিবারিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়েই মনে রাখতে হবে যে, শৃঙ্খলা বিধানই হলো মূল লক্ষ্য, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়। বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে দূরদর্শিতার পরিচায়ক। তাৎক্ষণিকতার আশ্রয় নিয়ে বোকামী করা মোটেই ঠিক নয়। ফুলের বুকে যদি মৌমাছি বসে, তাহলে সেই ফুল হয়ে ওঠে মধুময়। একই ফুলে যদি বোলতা বা ভীমরুল বসে, তাহলে কি সেই ফুল বিষময় হয়ে উঠবে? না, ফুল তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যেই অটুট থাকে। পার্থক্য শুধু এই যে, যে-যার প্রয়োজনীয় ও কাঙ্খিত জিনিস চেছে নেয়। ফলে, ফুলের কোন দোষ নেই। দোষ হলো গ্রহীতার।

উদাহরণ এ জন্য দেয়া হলো যে, যে কোন পরিবেশেই আপন প্রত্যাশার বাস্তবায়ন সম্ভব। যদি সেই প্রত্যাশা হয় আন্তরিক। ধরা যাক আপনার স্বামী গ্রামাঞ্চলে স্থানান্তরিত হয়েছে। স্ত্রী হিসেবে আপনিও সেই গ্রামে বসবাস করতে গেলেন। সেখানে গিয়েই দেখলেন যে, শহরের নাগরিক সুবিধা থেকে এই গ্রাম বঞ্চিত। এ অবস্থায় আপনি যদি তোলপাড় কান্ড শুরু করে দেন, তাহলে কিন্তু আর শান্তির সোনার হরিণ ধরা গেল না। পক্ষান্তরে এই পরিবেশকেই যদি আপনি ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেন, তাহলে কিন্তু শান্তির একটা সোনালী নীড় এখানে আপনি গড়ে নিতে পারেন। আপনি ভাবতে পারেন শহুরে অনেক সুবিধা এখানে হয়তো নেই, তবে প্রাকৃতিক যেই অকৃত্রিমতা এখানে রয়েছে, তা তো শহরে কল্পণাতীত। এখানে আপনি যেই তরতাজা তরী-তরকারী খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, পাচ্ছেন মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা, তাতো শহরে নেই। এভাবে ইতিবাচকভাবে ভাবতে পারলে এখানেও সম্ভব শান্তি-সুখের একটি পরিবেশ গড়ে তোলা।

মোটকথা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী জীবনকে নির্ঝঞ্ঝাট এক সহজতা দান করে।  ঠিক তেমনি ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে পারলে যে কোন বৈরী পরিবেশ-পরিস্থিতিতেও সানন্দে থাকা যায়। এটি একটি অসাধারণ গুন। ক্রমোন্নতির পথে এগিয়ে চলা যে কোন মানুষেরই একটা স্বাভাবিক প্রবণতা। আর এই উন্নতি সাধনের জন্যে প্রয়োজন সুদৃঢ় ইচ্ছা ও কঠোর শ্রম প্রদানের সামর্থ। এ দু'য়ের সমন্বয় ও বাস্তবায়নের জন্যে প্রয়োজন হয় একটা নেপথ্য অনুপ্রেরণা। যে কোন স্ত্রী তার স্বামীর এই উন্নতির পথকে করে দিতে পারে সুগম। স্ত্রী কেবল এ ক্ষেত্রে সাহায্য কারিণীই নয় বরং একজন যথার্থ গাইড হিসেবে স্বামী পুরুষটিকে নিয়ে যেতে পারেন সাফল্যের শিখরে । পৃথিবীব্যাপী উন্নতি ও কল্যাণের যতো উদাহরণ রয়েছে, সেসবের পেছনে রয়েছে এক-একটি নারীর আন্তরিক প্রেরণা। কবি নজরুল সম্ভবত এজন্যেই বলেছিলেন, পৃথিবীর যা কিছু সুন্দর চিরকল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর । তাই আপনার স্বামীর উন্নতির কোন সম্ভাবনা যদি দেখতে পান, তাহলে তাঁকে উৎসাহিত করুন । এই উন্নতি যেকোন ক্ষেত্রেই হতে পারে । কী ব্যবসা-বাণিজ্য, কী পড়ালেখা, কী গবেষণা, সর্বক্ষেত্রেই আপনি হতে পারেন সাফল্যের অন্যতম সহায়ক । তবে লক্ষ্য রাখতে হবে উৎসাহিত করতে গিয়ে স্বামীরা অর্থাৎ পুরুষরা সাধারণত নিয়ন্ত্রণ বা অধীনতা পছন্দ করে না । আর সৃজনশীলতা সবসময়ই স্বাধীনতার সুযোগে বিপথে চলে না যান । বিপথগামিতা থেকে ভালোবাসা দিয়ে আন্তরিকতা দিয়ে স্বামীকে ফিরিয়ে রাখতে হবে সুকৌশলে, বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ।

স্বামীর প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে সন্দেহ পরায়ন হয়ে যাওয়াটা ঠিক নয় । মনে রাখবেন সন্দেহ অত্যন্ত ক্ষতিকর একটা রোগ, যা চিকিৎসার অযোগ্য। সন্দেহপরায়ণতা থেকে মারাত্মক পরিণতি দেখা দেয় । স্বামী বা স্ত্রী যেই এই রোগে ভোগে তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত । কোনরকম বাদানুবাদ না করে যুক্তিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বিশ্বাস স্থাপন তথা সন্দেহ দূর করার চেষ্টা করতে হবে । এক্ষেত্রে পুরুষ বা স্বামীর ব্যক্তিটিকে সহনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে । মনে রাখতে হবে স্ত্রী যদি স্বামীকে সন্দেহ করে ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে তাহলে তা ভালোবাসারই লক্ষণ । তাই তার ভালবাসাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখা উচিত । যেকারণে কোন স্ত্রী তার স্বামীকে সন্দেহ করতে শুরু করে, বিচক্ষণতার সাহায্যে সেই কারণটি প্রথমে খুঁজে বের করা দরকার । তারপর ঐ সন্দেহ দূর করার জন্যে যে আচরণ করা সঙ্গত সততার সাথে তা করা উচিত । এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে আপনার সারাদিনের কাজকর্ম নিয়ে স্ত্রীর সাথে গল্প করুন । এমন আন্তরিকতার সাথে স্ত্রীর সাথে আচরণ করতে হবে যাতে স্ত্রী স্বামীর যেকোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারে নির্দ্বিধায় ।

নারীদের প্রতি এভাবে বিনয়ী ও সহনশীল আচরণ করলে তারাও তাদের কাজেকর্মে সততার পরিচয় দেবে । আপনারা যারা ইতিমধ্যে ঘর-সংসার শুরু করেছেন, তারা একটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, তা হলো যেকোন ব্যাপারে অভিযোগ করার আগে সুনিশ্চিত প্রমাণ থাকা চাই । যতোক্ষণ না নিশ্চিত প্রমাণ পাচ্ছেন ততোক্ষন পর্যন্ত কাউকে দন্ড দেয়ার অধিকার কারো নেই । প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করলে, সন্দেহ করলে,যাকে অভিযুক্ত করা হলো তার কেমন লাগবে, সে বিষয়টি নিজেকে দিয়ে একবার পরীক্ষা করুন । বিনা কারণে আপনাকে কেউ দোষী বললে আপনি কি কষ্ট পাবেন না ! এই কষ্টটি অন্যে দিলে পরিনতি কেমন হবে, তা নিজেই একবার ভেবে দেখুন ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন, "হে ঈমানদারগণ ! অধিকাংশ সন্দেহ পরিহার কর । কারণ নিশ্চিতরূপে কোন কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ হলো পাপ ।" কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে মিথ্যা দোষারোপ করার পরিমাপ সুউচ্চ পর্বতের চাইতে ভারী । তাই স্বামীকে সন্দেহ করার আগে ধীরে সুস্থে একবার ভাবুন ! তারপরও যদি সন্দেহ থাকে তাহলে ব্যাপারটা নিয়ে স্বামীর সাথে এমনভাবে আলাপ করার চেষ্টা করুন , যেন সত্য-মিথ্যা টের পাওয়া যায় । খোলামেলাভাবে আন্তরিকতার সাথে তাঁকে বলুন যেন সন্দেহের ব্যাপারটা তিনি পরিস্কার করে ব্যাখ্যা করে মন থেকে অশান্তি দূর করে দেন ।

No comments:

Post a Comment