২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে প্রথম পদচারণা,তখন তো সবেমাত্র নবীন। প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিজ্ঞতা।কিছু জানি না,কিছু চিনি না।আগে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক রকমের ধারনা ছিল,শুনেছিলাম এখান থেকেই বের হয় দেশের গর্বিত সন্তানেরা।শুনেছি এখানকার শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ভদ্র,নম্র।
সময়ের বিবর্তনে দুটি বছর কেটে গেল।অনেক ঘটনাদি ঘটে গেল চোখের সামনে,কখনও ধারনাগুলো সত্যি হয়েছে আবার কখনও ধারনাগুলো মিথ্যের চাদরে ঢেকে গেছে।বিচিত্র এই ক্যাম্পাস জীবনে অনেক কিছুই দেখেছি।দেখেছি বড় ভাইদের স্নেহমাখা হাত দুটি,দেখেছি তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে তারা কত সচেতন। ভাল দিকগুলির পাশাপাশি মন্দ দিকগুলিও কম দেখিনি।দেখেছি ন্যয্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য কীভাবে নিরীহ ছাত্রদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে? কীভাবে তাদের আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে।দেখেছি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। তারা একে অপরের উপর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করায় মরিয়া।এসব খারাপ দিকগুলি দেখে অনেক খারাপ লাগত। এরকম আরো বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ যে ঘটনাটি ঘটেছে,তা হল ডিপার্টমেন্টের ঘটে যাওয়া ঘটনা। দেখেছি কীভবে একটা মানুষকে করুনভাবে মৃত্যুবরন করতে হয়েছে।কতটা নৃশংস ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ভাইটির হাস্যোজ্বল চেহারায় সব সময় একটি সন্তুষ্টির চিহ্ন ফুটে থাকত।মাঝে মাঝেই পড়াশুনার বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করতাম,আলোচনা করতাম ভবিষ্যত কেরিয়ার নিয়ে।সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলাই যেন তার অভ্যাস ছিল।অনেক সময় তার সাথে গল্প গুজবেও মেতে উঠতাম। তার সাথে দেখা হলেই প্রায় সময় তিনিই আমাকে আগে সালাম দিতেন,খবর নিতেন কী রকম যাচ্ছে দিন?তাকে কোনদিন আমি আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি।
হঠাৎ একদিন(৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ভোরবেলা শুনলাম তিনি রাত্রে মারা গিয়েছে।খবরটা যেন নিজের কাছে আচমকা একটা গুজব মনে হল।যাইহোক যখন শিউর হলাম,কিছু বড় ভাইদের সাথে গেলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা তার লাশ দেখতে,তখন মনটা খারাপই ছিল।কিছুক্ষন অপেক্ষার পর যখন তার লাশ দেখতে লাশঘরে ঢুকলাম,ট্রের উপর রাখা লাশটির মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মনে হচ্ছে যেন তার হাস্যোজ্বল মুখে হাসিটুকু এখনও লেগে আছে।কিন্তু পায়ের দিকটাতে তাকাতেই দেখলাম জুতো জোড়া এখনও সেই আগের মত পায়ে দেওয়া।কিন্তু পায়ের কাপড়টুকু তুলতেই যা দেখলাম তা দেখতেই আঁতকে উঠলাম।মানুষ মাঝে মাঝে এমন হিংস জানওয়ারের মত হয়ে উঠে, যেন তা পশুকেও হার মানাবে।
তার একটি পা সম্ভবত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে,দুপায়ে দুটো গুলির দাগ এমন মনে হচ্ছে যেন স্থানটুকু থেতলে গিয়েছে। নিমিষেই মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল।চারিদিকে যেন কান্নার রোল পরে গেল,চারিদিকের অবস্থা দেখে নিজের চোখের পানিটুকু ধরে রাখতে পারলাম না,সহসা চশমার ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোটা জল। এভাবেই ঝরে গেল বৃন্ত থেকে সদ্য ফোটা একটি ফুল, আর রেখে গেল কিছু ফেলে আসা পুরোনো স্মৃতি.........
No comments:
Post a Comment