নারী আল্লাহতালার এক রহস্যময় সৃষ্টি। একজন লিওনার্দোর আঁকা মোনালিসার হাসির রহস্য জানতে-বুঝতেই সবজান্তা-বোদ্ধারা নাকাল! আর নারী? সে তো রীতিমতো আল্লাহর তৈরি! এর রহস্যের বুহ্যভেদ করা যে যারপরনাই কঠিন হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
কেননা, একজন নারী যতই বকবক করুক না কেন, নিজের গোপন কিছু কথা বরাবরই নিজের মাঝেই লুকিয়ে রাখেন। নিজের মুখে বলবেন না, আপনাকে বুঝতেও দিবে না। কিন্তু মনে মনে চাইবে, আপনি তার না বলা সব কথা জেনে নিন।কোন দৈব শক্তিবলে না হোক অন্তত নারীর ওপর করা কিছু গবেষণার সারসংক্ষেপের মাধ্যমেই না হয় জেনে নিন আপনার ভালবাসার মানুষটির এমনি গোপন কিছু কথা যা তিনি কখনই আপনাকে বলবেনা। কিন্তু তাকে বুঝতে হলে এ ব্যাপারগুলো আপনার শুধু জানলেই হবে না, বুঝে সেই অনুযায়ী কাজ ও করতে হবে।
নারী আন্তরিক পুরুষদের পছন্দ করে, যাকে সে নির্দ্বিধায় বিশ্বাস করতে পারবে।নারী স্বভাবতই তার অনুমানে বিশ্বাসী। আর মজার ব্যাপার হল নারীর এই অনুমানগুলো সঠিকও হয়ে থাকে। তাই আপনার স্ত্রীর সামনে মিথ্যা বলা কিম্বা কোনোকিছু লুকোনোর সময় সাবধান।
তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে তাকে সত্যটা জানিয়েই দিতে। তাই সত্য বলুন তাতে সে যত কষ্টই পাক না কেন। কারন যখন সে জানবে যে আপনি মিথ্যা বলেছেন, তখন তা তাকে আরও বেশি কষ্ট দিবে।
নারী চমকপ্রিয়। আপনি হয়ত মনে করতে পারেন এসব ছোটোখাটো চমকে কি আর এমন যাবে আসবে। কিন্তু থামুন, আপনি তাহলে নারী সম্পর্কে আসলে কিছুই জানেন না! কারন এসব ছোটোখাটো চমক বা সারপ্রাইজগুলো তাকে অনেক বেশি খুশি করে থাকে। তাই তাকে চমকে দিন আপনার ভালবাসার ছোট কোন উপহার দিয়ে।এর জন্য আপনার পকেটের ওপর দিয়ে কোন টর্নেডো বয়ে যাবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত? তবে ক্ষান্ত দিন। এক গুচ্ছ গোলাপ না হোক একটি ফুটফুটে গোলাপই দিয়ে দেখুন তার আকর্ষণ হাসিটা। তিনি আশা করছেন না এমন একটা সময়েই তাকে টেক্সট করুন। এতেই আপনার কাছের কিন্তু চির-রহস্যময়ি স্ত্রীর ঠোঁটে হাসি খেলে যাবে। তবে যাই করুন যেভাবেই করুন, অকপটে, সততার সাথে করুন।
নারী চান তার কাছের মানুষটির দ্বারা পরিচালিত হতে।কিন্তু আপনার স্ত্রী যতই কুংফু আর ক্যারাটে জানেন না কেন, তিনি চান আপনি তার খেয়াল রাখুন, তাকে সাহায্য করুন।তবে হ্যাঁ, তার অসুবিধা, ভাল না লাগা গুলোর দিকেও নজর দিন। জরুরি কাজের মুহূর্তে অহেতুক জ্বালাতন আপনারও ভাল লাগবে না।অনেক পুরুষের তার স্ত্রীকে নিয়ে এমন অভিযোগ থাকে যে তারা চান না তারা তাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করুক বা তাদের সময় দিক। এটা ঠিক যে প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব জীবন আছে, গণ্ডী আছে। কিন্তু মূল বিষয়টা হল, আপনি আপনার বন্ধুদের আপনার স্ত্রীর চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে দিচ্ছেন না তো?
আপনার বন্ধুদের সময়ে সময়ে বাড়িতে দাওয়াত দিন, কিংবা তাদের নিয়ে কোথাও ঘুরেই না হয় আসুন। কিন্তু আপনাকে এটাও বুঝতে হবে আপনার স্ত্রীরও আপনার মনোযোগ দরকার হয়। তাই এই অভিযোগ করার আগে একবার ভাবুন, তিনি যে আপনার বন্ধু-বান্ধবের সাথে দেখা করা বা তাদের সময় দেয়া নিয়ে আপত্তি করছেন, তার পিছনে মূল কারন তার প্রতি আপনার মনোযোগের কমতি না তো? একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন, যেকোনো সম্পর্কে যোগাযোগ, মনোযোগ, বোঝাপড়া আর খেয়াল রাখার অভাব বরাবরই অস্বাস্থ্যকর সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করে।আপনার স্ত্রী আপনার কাছে কখনই জানতে চাইবেনা আপনার বন্ধুরা তাকে কেমন চোখে দেখে। তাই বলে এটা ভাববেন না যে তিনি এটা নিয়ে চিন্তিত নন। আপনার বন্ধুদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এবং তারা কি ভাবেন তা তাকে বেশ উদ্বেলিত করে। তারচেয়েও বেশি তিনি চান তাকে নিয়ে তাদের যেন ভাল ধারনা হয়। এটা খারাপ কিছুনা। কারন অনেক সময় বন্ধুরা কি ভাবছে, কিভাবে নিচ্ছে তা আমাদের বেশ প্রভাবিত করে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত রাগা-রাগি আর তর্ককে এড়াতে এর প্রয়োজনীয়তা আছে।অবশ্য এক্ষেত্রে আপনার বন্ধুর সাথে আপনার নিজের সম্পর্কের বিশ্বস্ততা আর বন্ধুত্বের সময়কালটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারন, প্রসঙ্গটা যদি আপনার বাল্যকালের বন্ধুর হয়, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই তার মতামত এড়িয়ে যাবেন না। আগেই যেমনটা বলেছিলাম,প্রত্যেকেরই একটা নিজস্ব জীবন আছে, গণ্ডী আছে। তাই এমন একটা সময় আসতেই পারে যখন আপনার স্ত্রি কিছুটা সময় একান্তে কাটাতে চাইবেন। এটা খারাপ কিছুনা। এটাকে অন্যভাবে নেয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
নারী স্বভাবতই কালেভাদ্রে একান্তে থাকতে চান। আর এটা নিয়ে বরাবরই না করে তাকে তার মত থাকতে দিন। করতে দিন তিনি যা করতে চান। তাই যদি আপনার স্ত্রি আপনাকে একদিন বলে বসেন, ‘আমাকে একটু একা থাকতে দাও’, তাহলে এতে মন খারাপ না করে, তাকে থাকতে দিন একান্তে। তিনি তো আর সারা জীবনের জন্য আলাদা হচ্ছেন না। যে আপনার সে তো আপনারই, তাহলে আর অতশত চিন্তা কেন?
আর যাই করুন, মনে রাখবেন, নারীর কাছে আপনার সততা, বিশেষ করে আপনার অনুভূতির সততার মুল্য সব থেকে বেশি। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার চাপমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ডেভিসের করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারীরাই সব থেকে বেশি মর্মাহত হয় মানসিক বিশ্বাসঘাতকতায়। তাই ‘সততাই সর্বোত্তম পন্থা’ কথাটি আপনার মাথায় গাঁট মেরে দিন। তাকে যদি কোনকিছুতে অসুন্দর লাগে, তবে তাকে ‘চমৎকার লাগছে’ না বলে বরং তাকে সত্যটাই বলুন।
তিনি মোটা হয়ে গেলে, তাকে জানতে দিন তিনি মোটা হলেও তাকে বরাবরের মতই চমৎকার লাগছে। তার কোন সিদ্ধান্ত ভুল হলে তর্ক না করে তাকে বুঝান কেন এবং কোথায় তার ভুল হচ্ছে। তার কোন কাজ ভাল লাগলে, তার প্রশংসা করুন।তবে হ্যাঁ, অহেতুক কোনকিছু বলা বা করা থেকে বিরত থাকুন। কারন, একজন নারী জানেন,তাকে সুন্দর লাগছে কি না আর আপনার প্রশংসা আদতে সত্য বচন কিনা। তাই সব অবস্থাতেই সৎ থাকুন তার প্রতি আপনার অনুভূতিগুলো নিয়ে।
No comments:
Post a Comment